বিগত নির্বাচনের সময় যা ছিল তার চেয়ে অনেক কম
গ্যাস-বিদ্যুৎ-দ্রব্যমূল্য প্রভৃতি এর একটি কারণ বটে
কিন্তু সরকারি দলের আচরণও এ জন্য কম দায়ী নয়
তবে এখনো যে প্রায় ৫০ শতাংশ সমর্থন টিকে আছে তা হয়তো দলের মধ্যে সচেতন ওই অংশের কারণে
ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সব সময় একধরনের উদ্ধত মনোভাব কাজ করে
আওয়ামী লীগ তার ব্যতিক্রম নয়
হয়তো তাদের মধ্যে একটু বাড়াবাড়িই রয়েছে
১৯৭৩-৭৪ সালে একবার ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তি হয় যে তাদের কর্মীরা একসঙ্গে মিলে অবৈধ রেশন কার্ড উদ্ধারে কাজ করবে
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু হলো অভিযান
সে সময় নির্ধারিত কম দামে চাল-গম-তেল-সাবান প্রভৃতি সরবরাহ করা হতো রেশন কার্ডে
মাথাপিছু সবার একটা করে রেশন কার্ড থাকার কথা
কিন্তু প্রভাবশালীরা অবৈধ রেশন কার্ডের দুর্নীতি শুরু করলেন
অভিযানটি ছিল এদেরই বিরুদ্ধে
ফলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা রুখে দাঁড়ালেন
ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী এবং পুলিশসদস্যরা হামলার শিকার হলেন
সরকারি দলের দোর্দণ্ডপ্রতাপের কাছে কেউ টিকতে পারলেন না
শেষ পর্যন্ত অভিযান থেমে গেল
ছাত্রলীগের সৎ কর্মীরাও চুপ মেরে গেলেন
কারণ নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁরা কী করবেন এসব ঘটনার পরিণতি কী হয়েছিল তা আমরা সবাই জানি
এখন সেই ৭৩ সাল না
আর সেই ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগও নেই
নিশ্চয়ই অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দলের বিকাশ হয়েছে
গণতন্ত্র এগিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ দেশে সৃষ্টি হয়েছে তার বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের অনেক সম্ভাবনা এখনো আছে
সে ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগী হতে হবে
কিন্তু গতানুগতিক ধারায় তা হবে না
এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে
পাবনার ঘটনাটিই ধরা যাক
ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার নজিরবিহীন ঘটনা নিশ্চয়ই ক্ষমার অযোগ্য
কিন্তু পাবনার জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে অন্য কর্মকর্তারা যে সুধীজনদের সঙ্গে বৈঠকের সময় কান্নাকাটি শুরু করলেন সেটা কি ঠিক হয়েছে তাঁদের মন ভেঙে গেছে সেটা সত্য
কিন্তু জেলা প্রশাসকের অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ যেভাবে তাঁরা ঘটিয়েছেন সেটা সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ১৯৮৫-এর সঙ্গে যায় কি না তা বিবেচনার দাবি রাখে
কারণ একদিকে যেমন তাঁরা সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্নজনের সঙ্গে আলোচনা-বৈঠক করতে পারেন আবার অন্যদিকে তাঁরা নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না যা সমাজের চোখে অশোভনীয়
এখন আবেগে কেঁদে ফেলাকে কোন খাতে ধরা হবে অবশ্য এইচ টি ইমাম বলেছেন জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন যে তাঁরা কাঁদেননি
এটা যদি জেলা প্রশাসক বলে থাকেন তাহলে কিছু করার নেই
শুধু প্রশ্ন ওঠে চোখের পানি একবার বেরোনোর পর সেই পানি তিনি চোখে আবার ঢোকাবেন কীভাবে  
কিন্তু এটাও ভেবে দেখা দরকার জেলা প্রশাসকের মামলার আসামি ধরতে যদি পুলিশ গরজ না দেখায় তাহলে তাঁরা কোথায় যাবেন এ জন্য একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ের কথা আমাদের সংবিধানে আছে
সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে
সংসদে আইনের দ্বারা এই পদ প্রতিষ্ঠার কথা
১৯৮০ সালে আইনও করা হয়েছে
জাতীয় সংসদের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি ন্যায়পাল নিয়োগ দেবেন এই বিধান করা হয়েছে
কিন্তু আইনটি কার্যকর করা হয়নি
অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া দরকার
তবে তিনি যদি সকলের আস্থাভাজন না হন বা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করার সুযোগ না পান অথবা সরকার যদি তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দেয় তাহলে লাভ হবে না
ভারত শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংসদের আইনে ন্যায়পাল কাজ করছেন
বাংলাদেশে থাকলে হয়তো পাবনার কর্মকর্তারা অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার একটা আইনসম্মত জায়গা পেতেন সুধীজনদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের আশ্রয় নিতে হতো না
তবে প্রশাসনের চেয়ে বরং মূল রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব দলীয় ন্যায়পাল থাকা বেশি দরকার
একজন প্রবীণ অভিজ্ঞ ও দলের সর্বপর্যায়ে গ্রহণযোগ্য কোনো নেতাকে ন্যায়পাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক
প্রশ্ন উঠতে পারে নেতারা কিছু করতে না চাইলে ন্যায়পাল কী করবেন এখানে একটা ব্যাপার আছে
নেতারা কেন ব্যবস্থা নিতে পারেন না বা চান না যাঁরা অন্যায়ের প্রতিকার চান না তাঁদের কথা বাদ দিলাম
কিন্তু যাঁরা কিছু করতে চান তাঁরা তো দলে কোণঠাসা হওয়ার ভয়ে কিছু করতে পারেন না
দলের যদি একজন ন্যায়পাল থাকতেন তাহলে পাবনার ওই দায়িত্বশীল অংশ তাঁর শরণাপন্ন হতে পারত
দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না এই সত্য মেনে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়
এবং ব্যবস্থাটি ত্রুটি-দুর্বলতা সত্ত্বেও কাজ দিচ্ছে
এমনকি যে বিএনপি প্রথমাবধি এ ব্যবস্থার বিরোধী ছিল তারাও এখন বলছে সংবিধান সংশোধনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দেওয়া যাবে না
একই নীতি অনুসরণে আমরা বলব ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাইলেও যদি দল সামলাতে না পারে তাহলে সামলানোর ভারটা ন্যায়পালকে দিন
একটা নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে উঠুক
তবে সেই ন্যায়পালকে ফোঁসফাঁস করার ক্ষমতা দিতে হবে
আব্দুল কাইয়ুম সাংবাদিক
ভাইরাস পরীক্ষার প্রক্রিয়া শোনা যাবে
ইউএসবি ড্রাইভ বা পেনড্রাইভে ভাইরাস আছে কিনা তা পরীক্ষা করার সময় সংকেত পাওয়া যাবে
পুরো প্রক্রিয়া শোনাও যাবে
এ জন্য ২ মেগাবাইটের ইউএসবি টলক নামের সফটওয়্যার ইন্টার০নেট থেকে সংগ্রহ করে ইনস্টলকরে নিতে হবে
সফটওয়্যারটি সংগ্রহ করার ওয়েব ঠিকানা ///2010/09/--
বিসিবি সভাপতির সালতামামি
বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা ধারণা প্রায় প্রতিষ্ঠিতই হয়ে যাচ্ছিল—আ হ ম মোস্তফা কামালের সংবাদ সম্মেলন মানেই সাংবাদিক বনাম বোর্ড সভাপতির কথার যুদ্ধ
সাংবাদিকদের কোনো না কোনো প্রশ্নের হয়তো একটা বক্র উত্তর দিয়ে বসবেন সংবাদ সম্মেলনের পরিবেশ যাতে তিক্ত ও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে
এই প্রথম সেটা হলো না
বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল সম্ভবত গত এক বছরের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা দেখালেন কাল
বিসিবি সভাপতির পদে বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন যে হয়নি তা নয় কিন্তু মোস্তফা কামাল যেন বদলে যাওয়া এক ব্যাটসম্যান! ছক্কা হাঁকাতে কোনো বেপরোয়া শট নয় কোনো ক্যাচও তাই উঠল না শেরাটন হোটেলের বলরুমে
মোস্তফা কামাল যখন বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব নেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছিল
কিন্তু এই এক বছরে সেসব প্রতিশ্রুতির কটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তিনি সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা করারই দরকার হয়নি কারণ বোর্ড সভাপতি আগেই বলে দিয়েছেন আমি এখানে কোনো বিবৃতি দিতে আসিনি
আমার সাফল্য-ব্যর্থতা আপনারাই ভালো মূল্যায়ন করবেন
তবে ক্রিকেট দেশের সব মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা
এক বছর আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আমরা সেসব পূরণ করার দিকেই এগোচ্ছি
মোস্তফা কামাল যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ করতে পারেননি তার মধ্যে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গঠনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া
দায়িত্ব নেওয়ার পরপর খুব জোর দিয়ে বলেছিলেন এটা করবেনই
অথচ এক বছরেও পূরণ হয়নি সেই প্রতিশ্রুতি! কাল এই ব্যর্থতা স্বীকার করেই আরও একবার আশার বাণী শোনালেন সভাপতি গঠনতন্ত্র তৈরি হয়ে গেছে
আশা করি আগামী ২৪ অক্টোবর বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় এটা অনুমোদিত হবে
এরপর সরকারের অনুমোদনেরও দরকার আছে
সেটা হয়ে গেলেই আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে
এটার জন্য আমরা আলাদা বাজেটও বরাদ্দ রেখেছি
ক্রিকেটের উন্নয়নে এখন যেসব কাজ চলছে তার সবই চলবে
সঙ্গে নতুন কিছু পরিকল্পনার কথাও জানালেন মোস্তফা কামাল
স্কুলছাত্রদের খেলায় উৎসাহ দিতে এ বছরের মধ্যেই দেশের ১৫ থেকে ২০টি জেলা স্কুল মাঠে অ্যাস্ট্রোটার্ফ বসানো হবে
এটিতে ভালো ফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্কুলেই বসানো হবে টার্ফ
বোর্ডের উদ্যোগে ঢাকার ক্লাবগুলোর অনুশীলন-সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মোস্তফা কামাল মহিলা ক্রিকেটারদেরও দিলেন সুখবর একটা স্টেডিয়াম আমরা শুধু মেয়েদের খেলার জন্য দিয়ে দেব
এ বছরের মধ্যেই মেয়েদের জন্য বিদেশি কোচও আনা হবে
এ ছাড়া ক্রিকেট বোর্ডের অর্থায়নে কক্সবাজারে বিসিবির নিজস্ব স্টেডিয়াম তৈরির কাজও আগামী এক বছরের মধ্যে শুরু হবে বলে আশাবাদী বোর্ড সভাপতি
নতুন পরিকল্পনার মধ্যে আরও আছে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতো এ দল এবং একাডেমি দলের ক্রিকেটারদের মাসিক বেতনের আওতায় আনা ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অনুসরণে জাতীয় দল এ দল এবং একাডেমি দলের মধ্যে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা
বিসিবির সভাপতি হিসেবে গত এক বছরে মোস্তফা কামাল সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন সম্ভবত দল গঠনে হস্তক্ষেপের কারণে
এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও তিনি বলেছেন কোনো নির্বাচকই বলতে পারবেন না যে আমি এই খেলোয়াড়টাকে বাদ দিয়ে ওই খেলোয়াড়টাকে নিতে বলেছি
তবে হ্যাঁ যে দলটা ঘোষিত হয় সেটাতে যেহেতু আমার স্বাক্ষর থাকে দলটা কী রকম হলো কারা দলে এল সেটা দেখা আমার দায়িত্ব
কখনো কোনো ব্যাপারে আমার বক্তব্য থাকলে সেটা আমি নির্বাচকদের জানাই তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করি
সেদিক দিয়ে পরোক্ষভাবে হয়তো একটা ভূমিকা থাকে আমার
তবে দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কখনোই করি না
ওয়ার্কিং কমিটি অকর্মণ্য হয়ে পড়া এবং অলিখিতভাবে টেকনিক্যাল কমিটিরই সর্বময় ক্ষমতার আধার হয়ে ওঠা বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটির এলওসি বিভিন্ন নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম—সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছে এসব নিয়েও
বোর্ড সভাপতি হিসেবে বিতর্কিত প্রশ্নের যে রকম উত্তর দেওয়া উচিত তা-ই দিলেন মোস্তফা কামাল
সংবাদ সম্মেলন যেহেতু সমস্যা সমাধানের জায়গা নয় উত্তপ্ত প্রশ্নের জবাবে পাল্টা উত্তাপ ছড়িয়ে খামাখা নতুন সমস্যার জন্ম দেওয়া কেন
এটাও হয়তো মোস্তফা কামালের একটা সাফল্য যে হঠাৎ আসা বাউন্সারে হুক-পুলের চেষ্টা না করে সংযমী থাকলেন
নইলে বর্ষপূর্তির সংবাদ সম্মেলন থেকে ক্যাচ অবশ্যই উঠত
তবে শেরাটনের বলরুমে নয় ক্যাচটা হয়তো উড়ে যেত বিসিবি অফিসের করিডরে
